পেঁপে
🟢 পেঁপে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য (১০টি পয়েন্ট)
- বৈজ্ঞানিক নাম: Carica papaya — এটি Caricaceae পরিবারভুক্ত একটি ফলজাত উদ্ভিদ।
- উৎপত্তি স্থান: দক্ষিণ আমেরিকা; বর্তমানে বাংলাদেশসহ বহু দেশে চাষ হয়।
- গাছের বৈশিষ্ট্য: অশাখ বৃক্ষ, বড় ছত্রাকার পাতা, উচ্চতা ২–৪ মিটার।
- ফল: কাঁচা অবস্থায় সবজি, পাকা অবস্থায় মিষ্টি ফল; কমলা বা হলুদ রঙের।
- পুষ্টিগুণ: ভিটামিন C, আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হজমে সহায়ক প্যাপেইন এনজাইম থাকে।
- স্বাস্থ্য উপকারিতা: হজমে সহায়তা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ত্বকের জন্য উপকারী।
- চাষ পদ্ধতি: বীজ থেকে চারা তৈরি, ২ মিটার দূরত্বে রোপণ, স্ত্রী গাছ রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলা হয়।
- সার ব্যবস্থাপনা: জৈব সারসহ ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, বোরন ও জিংক প্রয়োগ প্রয়োজন।
- রোগবালাই: ঢলে পড়া, ড্যাম্পিং-অফ, পাতা হলুদ হওয়া; প্রতিকার হিসেবে পানি নিষ্কাশন ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ।
- অর্থনৈতিক গুরুত্ব: সারা বছর ফল দেয়, বাজারে চাহিদা বেশি, কৃষকের জন্য লাভজনক ফসল।
✅ পেঁপে সম্পর্কে বিস্তারিতঃ
-
বৈজ্ঞানিক নাম ও পরিবার
- Carica papaya
- পরিবার: Caricaceae
এটি একটি সপুষ্পক, অশাখ বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ যা ফল ও সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
-
উৎপত্তি ও বিস্তার
- পেঁপের উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকায়, বিশেষ করে মেক্সিকো ও কোস্টারিকায়।
- বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিলসহ বহু দেশে চাষ হয়।
-
গাছের গঠন
- গাছ সাধারণত ২–৪ মিটার উঁচু হয়।
- পাতাগুলো বড়, ছত্রাকার এবং সর্পিলভাবে কান্ডের উপরে সজ্জিত থাকে।
-
ফুল ও ফল
- ফুল সাদা বা হালকা হলুদ রঙের, স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা গাছে হয়।
- ফল কাঁচা অবস্থায় সবজি এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়।
- পাকা ফল কমলা বা হলুদ রঙের, মিষ্টি ও রসালো।
-
পুষ্টিগুণ (প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে)
- শক্তি: ৩২ কিলোক্যালরি
- শর্করা: ৭.২ গ্রাম
- ভিটামিন C: ৫৭ মিগ্রা
- আঁশ: ০.৮ গ্রাম
- আয়রন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও খনিজ পদার্থ বিদ্যমান
-
স্বাস্থ্য উপকারিতা
- হজমে সহায়ক (প্যাপেইন এনজাইমের কারণে)
- কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ, কৃমি, রক্তকাশি ও ত্বকের রোগে উপকারী
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
-
চাষ পদ্ধতি
- উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি উপযোগী
- বীজ থেকে চারা তৈরি করে ২ মিটার দূরত্বে রোপণ করা হয়
- প্রতি গর্তে ৩টি চারা রোপণ করে পরে স্ত্রী গাছ রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হয়
-
সার ব্যবস্থাপনা
- প্রতি গাছে:
- ১৫ কেজি জৈব সার
- ৫৫০ গ্রাম ইউরিয়া
- ৫৫০ গ্রাম টিএসপি
- ৫৫০ গ্রাম এমওপি
- ২৫ গ্রাম বোরাক্স
- ২০ গ্রাম জিংক সালফেট প্রয়োগ করতে হয়
- প্রতি গাছে:
-
রোগ ও প্রতিকার
- ড্যাম্পিং-অফ রোগ, ঢলে পড়া রোগ, জিংকের ঘাটতি ইত্যাদি দেখা যায়
- পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা এবং রিডোমিল প্রয়োগে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
-
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- পেঁপে একটি লাভজনক ফল; সারা বছর ফল দেয়
- বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে কৃষকরা ভালো আয় করতে পারেন
- ভারতের বিহার সরকার পেঁপে চাষে ৭৫% পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়
পেঁপে শুধু পুষ্টিকর ফল নয়, এটি স্বাস্থ্যকর, সহজ চাষযোগ্য এবং অর্থকরী ফসল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
User Reviews
Be the first to review “পেঁপে”
General Inquiries
There are no inquiries yet.
There are no reviews yet.